iPhone Security & Privacy Settings নিয়ে যা জানা জরুরি

iPhone Security & Privacy Settings নিয়ে যা জানা জরুরি

Apple ডিভাইস সাধারণত শক্তিশালী প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি ফিচারের জন্য পরিচিত। তবে সচরাচর এই ফিচারগুলোর অনেকগুলো ডিফল্টভাবে চালু থাকে না, অথবা অনেক সময় ব্যবহারকারীরা এগুলো ঠিকভাবে সেটআপই করেন না। ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকেই যায়। আপনার ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই আপনার ব্যক্তিগত জীবনকে সুরক্ষিত রাখা। ঠিক এই কারণেই iPhone Security & Privacy Settings সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি

এই ব্লগে আমরা সহজ ভাষায় আলোচনা করেছি iPhone-এর গুরুত্বপূর্ণ Security ও Privacy Settings নিয়ে,যেগুলো জানা ও সঠিকভাবে ব্যবহার করা প্রত্যেক আইফোন ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আইফোনের Security সেটিংস পরিবর্তন

আজকাল আইফোনে ছবি, ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে শুরু করে পেমেন্ট আর দরকারি ডকুমেন্ট, সবই থাকে। তাই একটু সময় নিয়ে কয়েকটি জরুরি Security সেটিংস ঠিক করে নিলেই, আপনি নিশ্চিন্তে আপনার আইফোনকে আরও নিরাপদভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

Face ID ব্যবহার করুন

Face ID হলো আইফোনের সবচেয়ে আধুনিক এবং নিরাপদ ফিচার। এটি শুধু আপনার মুখের ছবি দেখে ফোন আনলক করে না, বরং TrueDepth Camera ব্যবহার করে আপনার মুখের একটি নিরাপদ 3D ম্যাপ তৈরি করে। ইনফ্রারেড ডটের মাধ্যমে মুখ বিশ্লেষণ করা হয় এবং এই তথ্য ফোনের Secure Enclave-এ সুরক্ষিত থাকে। আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ এটি দেখতে পারবে না, এমনকি অ্যাপলও।

Face ID চালু রাখলে আপনার ফোন কেবলমাত্র আপনার মুখে আনলক হবে, তাই অন্য কেউ সহজে খুলতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ এবং ফাইল Face ID দিয়ে লক করা যাবে, Apple Pay এবং অন্যান্য পেমেন্ট আরও নিরাপদ হবে, আর পাসওয়ার্ড টাইপ না করেও অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে দ্রুত লগইন করা সম্ভব হবে।

কীভাবে চালু করবেন:

Settings → Face ID & Passcode → Set Up Face ID

Face ID সঠিকভাবে কাজ না করলে iPhone-এর Security সেটিংস প্রভাবিত হতে পারে। সমাধান জানতে পড়ুন আইফোনের Face ID সমস্যা ও সমাধান

Two-Factor Authentication সেট আপ করুন

Two-Factor Authentication বা 2FA আপনার Apple ID-কে দ্বিগুণ সুরক্ষা দেয়। এর মানে, শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। যখনই কোনো নতুন ডিভাইস বা ব্রাউজার থেকে লগইন করার চেষ্টা করা হবে, তখন আপনার আগে থেকে নির্ধারিত বিশ্বস্ত ডিভাইসে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে। সেই কোড ছাড়া লগইন করা সম্ভব নয়, ফলে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

2FA চালু করতে: Settings → Your Name → Sign-in & Security → Two-Factor Authentication। 

এখানে আপনি আপনার মোবাইল নাম্বার এবং কোন ডিভাইস থেকে ভেরিফাই করতে চান তা সেট করতে পারবেন। এই ছোট পরিবর্তনটি আপনার Apple ID-কে অনেক বেশি নিরাপদ করে তোলে।

বায়োমেট্রিক ও শক্তিশালী পাসকোড দিয়ে আপনার ফোন সুরক্ষিত রাখুন

অনেকেই এখনও সহজ 4-digit পাসকোড ব্যবহার করেন, যা অনুমান করা সহজ। তাই 6-digit বা অক্ষর+সংখ্যার আলফানিউমেরিক পাসকোড ব্যবহার করুন। Face ID-এর সঙ্গে এটি ব্যবহার করলে নিরাপত্তা আরও বেড়ে যায়।

Auto Lock-এর সময় কমিয়ে রাখুন, যাতে ফোন কিছুক্ষণ না ব্যবহার হলে নিজে থেকেই লক হয়ে যায়। এতে ফোন হারালে বা ভুল হাতে গেলেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকে।

আইফোনের Cloud Storage এনক্রিপ্ট করুন

আইফোনের Cloud Storage এনক্রিপশন মানে হলো আপনার iCloud-এ থাকা ডেটা সুরক্ষিত রাখা, যাতে কেবলমাত্র আপনি বা অনুমোদিত ডিভাইসই তা দেখতে বা এক্সেস করতে পারেন। যখন iCloud Backup চালু থাকে, তখন আপনার ছবি, কন্টাক্ট, অ্যাপ ডাটা সবই Apple-এর এনক্রিপশন সিস্টেমের মাধ্যমে নিরাপদ থাকে। ফলে কেউ সহজে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারবে না।

চেক করতে: Settings → Your Name → iCloud → iCloud Backup।

Stolen Device Protection চালু করুন

Stolen Device Protection হলো iOS-এর একটি নতুন ফিচার, যা ফোন চুরি হলে Apple ID পাসওয়ার্ড বা Face ID রিসেট পরিবর্তন কঠিন করে দেয়। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও অ্যাকাউন্ট অনেক বেশি নিরাপদ থাকে।

চালু করতে: Settings → Face ID & Passcode → Stolen Device Protection। এটি ব্যবহার করার জন্য Face ID এবং Passcode অবশ্যই চালু থাকতে হবে। একবার চালু করলে আপনার অ্যাকাউন্ট চোর বা অননুমোদিত ব্যবহারকারীর হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

Find My option চালু করুন

Find My iPhone ফোন হারালে বা চুরি হলে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে। এটি চালু করলে আপনি ফোনের লাইভ লোকেশন দেখতে পাবেন এবং প্রয়োজন হলে দূর থেকে ফোন রিং করাতে পারবেন। যদি মনে হয় ফোন আর ফিরবে না, তবে সব ব্যক্তিগত ডাটা দূর থেকেও মুছে ফেলা যাবে। এর ফলে আপনার তথ্য ভুল হাতে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

চালু করার উপায়:
Settings → Your Name → Find My → Find My iPhone → On

 আইফোনের Privacy সেটিংস পরিবর্তন

আপনি কি চান আপনার ব্যক্তিগত তথ্য শুধু আপনার নিয়ন্ত্রণেই থাকুক? কয়েকটি সহজ Privacy সেটিংস পরিবর্তন করলেই আপনি ঠিক করতে পারবেন কোন অ্যাপ বা সার্ভিস আপনার ডেটা ব্যবহার করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং বন্ধ করুন

অনেক অ্যাপ আমাদের অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করে এবং সেই অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখায়। এতে দেখা যায় আপনি কী দেখছেন, কী কিনছেন—এসব তথ্য অ্যাপগুলোর মধ্যে শেয়ার হতে পারে। চাইলে এই ট্র্যাকিং পুরোপুরি বন্ধ করা যায়। Settings → Privacy & Security → Tracking থেকে “Allow Apps to Request to Track” অপশনটি বন্ধ করে দিলে অ্যাপগুলো আপনার ব্যবহার অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে না, আর আপনার অনলাইন প্রাইভেসি অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।

লোকেশন শেয়ারিং কাস্টমাইজ করুন

সব অ্যাপের সব সময় আপনার লোকেশন জানা প্রয়োজন হয় না। অনেক অ্যাপ অকারণে Location Access চায়, যা প্রাইভেসির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য আপনি “While Using the App” অপশন ব্যবহার করতে পারেন, আর যেসব অ্যাপের লোকেশন দরকার নেই, তাদের Location Access পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন। Settings → Privacy & Security → Location Services থেকে এটি সহজেই কাস্টমাইজ করা সম্ভব। এর ফলে আপনার অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে শেয়ার হবে না।

App শেয়ারিং সেটিংস পরিবর্তন করুন

কোন অ্যাপ আপনার কন্টাক্ট, ছবি, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা ফাইল ব্যবহার করছে, তা দেখে আপনার মতো করে ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। Settings → Privacy & Security → App Permissions থেকে যেসব অ্যাপের প্রয়োজন নেই, তাদের পারমিশন বন্ধ করে দিন। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকবে এবং অপ্রয়োজনীয় এক্সেস কমে যাবে।

Apple Analytics বন্ধ করুন

Apple Analytics আপনার আইফোনের ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের সেবা উন্নত করতে সাহায্য করে, কিন্তু চাইলে আপনি এই ডেটা শেয়ার বন্ধ রাখতে পারেন। Settings → Privacy & Security → Analytics & Improvements → Share iPhone Analytics বন্ধ করে দিলে আপনার ব্যবহারের তথ্য Apple-এর কাছে পাঠানো হবে না এবং ডিভাইস আরও প্রাইভেট থাকবে।

Hide (or Lock) অ্যাপ এবং ফটো

আইফোনে অনেক ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা অ্যাপ থাকে যা অন্য কেউ দেখলে আপনি অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। Photos App-এর Hidden Album ব্যবহার করে ছবি লুকিয়ে রাখুন এবং Face ID দিয়ে লক করুন। App Library ব্যবহার করে অ্যাপগুলো হাইড করতে পারেন। আর Screen Time ফিচার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট অ্যাপ লক করা সম্ভব। এর ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও মিডিয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।

iPhone-এ আপনার Privacy ও Security বাড়াতে প্রয়োজনীয় অ্যাপসমূহ

শুধু সেটিংস পরিবর্তন করলেই সব সময় সম্পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়া যায় না। কিছু বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করলে আপনার iPhone-এর Privacy ও Security আরও শক্তিশালী হয়।

1Password / Bitwarden – শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ম্যানেজার

আপনার আইফোনের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে আপনি 1Password বা Bitwarden পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন। এই অ্যাপগুলো প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি করে এবং Face ID ব্যবহার করে সেগুলো নিরাপদ রাখে। লগইনের সময় অ্যাপ নিজে থেকেই পাসওয়ার্ড পূরণ করে দেয়, ফলে আপনাকে মনে রাখতে হয় না এবং লগইনও দ্রুত হয়।

NordVPN / Proton VPN – নিরাপদ ইন্টারনেট ব্রাউজিং

নিরাপদ ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য NordVPN বা Proton VPN ব্যবহার করা খুব কার্যকর। এই অ্যাপগুলো আপনার আসল IP ঠিকানা লুকিয়ে রাখে, পাবলিক Wi-Fi ব্যবহার করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং অনলাইন ট্র্যাকিং কমিয়ে দেয়। এর ফলে আপনি অনলাইনে অনেক বেশি প্রাইভেটভাবে ব্রাউজ করতে পারেন।

উপসংহার

iPhone-এর Security ও Privacy Settings ঠিকভাবে সেট করা অনেকের জন্য সময়সাপেক্ষ হতে পারে। চিন্তার কিছু নেই আপনি চাইলে Apple Gadgets Care থেকে সম্পূর্ণ ফ্রি পরামর্শ নিতে পারেন। আমাদের অভিজ্ঞ টিম আপনার iPhone-এর প্রয়োজনীয় Security ও Privacy সেটিংস সঠিকভাবে গাইড করবে, যাতে আপনার ডিভাইস ও ব্যক্তিগত তথ্য দুটোই নিরাপদ থাকে।

 

সাধারণ প্রশ্নাবলী 

প্রশ্ন ১: আইফোনে কোন অ্যাপ ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে কীভাবে বোঝা যাবে?

উত্তর:
আইফোনের পর্দার উপরের অংশে কমলা রঙের বিন্দু দেখা গেলে বুঝতে হবে মাইক্রোফোন চালু আছে এবং সবুজ রঙের বিন্দু দেখা গেলে ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে। কন্ট্রোল সেন্টার খুললে কোন অ্যাপ এই অনুমতি ব্যবহার করছে তা দেখা যায়।

প্রশ্ন ২: অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:
অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট একটি সুবিধা, যার মাধ্যমে জানা যায় কোন অ্যাপ কতবার লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেছে। এটি ব্যবহার করে সন্দেহজনক অ্যাপ সহজে শনাক্ত করা যায়।

প্রশ্ন ৩: সব অ্যাপের জন্য লোকেশন সার্ভিস চালু রাখা কি নিরাপদ?

উত্তর:
না। সব অ্যাপের লোকেশন জানার প্রয়োজন হয় না। যেসব অ্যাপে লোকেশন প্রয়োজন নেই, সেগুলোর জন্য লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখা বা প্রিসাইজ লোকেশন অপশন বন্ধ করা প্রাইভেসির জন্য ভালো।

Chat with us